STATUS UPDATE: কিটো ডায়েট ছাড়া কোনো কথা হবে না 😊

তিন: টাইম প্যারাডক্স

মুমিন ভাই আর আমি অফিসের গাড়িতে করে দু’দিনের জন্য দিনাজপুর যাচ্ছি। সাড়ে তিনশো কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিতে হবে। পৌঁছতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। এখন সাড়ে দশটা বাজে। বাইরে মর্নিং ডার্কনেস, ঝড় হওয়ার সম্ভাবনা। গাড়িতে এফএম রেডিওতে গান চলছিল। সেই সাথে মুমিন ভাই কথা বলছিলেন।

মুমিন ভাই: ধর লম্বা একটা সাপ তার নিজের লেজ নিজে গেলা শুরু করল। গিলতে গিলতে একসময় নিজেকে পুরোটা গিলে ফেলল। কল্পনা করতে পার ব্যপার টা?
আমি: (হতভম্ব) জ্বী না

মুমিন ভাই: আচ্ছা। বিষয়টা আরও ইন্টারেস্টিং করা যাক। গ্র্যান্ডফাদার প্যারাডক্স সম্পর্কে জান?
আমি: নামটা শুনেছি তবে ঠিক মত বুঝে উঠতে পারিনি।

মুমিন ভাই: মনে কর তুমি টাইম ট্রাভেল করছ। তোমার কাজ অতীতে ফিরে গিয়ে মন্দ মানুষদের অ্যাসাসিনেট করা।
আমি: আটসাট হয়ে বসলাম। জ্বী..

মুমিন ভাই: তুমি ১০০ বছর অতীতে ফিরে গেলে। তোমার টার্গেট হচ্ছে ১৮ বছর বয়সী তোমার দাদা। তুমি ঠিকঠাক মত সাইলেন্সার লাগানো রিভলভার দিয়ে তাকে গুলি করলে। কি ঘটবে?
আমি: দাদা মারা যাবেন ?

মুমিন ভাই: ভাল করে চিন্তা করে দেখ। তখন তোমার জন্ম হয় নি, তোমার বাবার জন্মও হয়নি। যদি তুমি অতীতে তোমার দাদাকে মেরে ফেল তাহলে তার কোন সন্তান হবে না এবং নাতিও হবে না। এবং তাই যদি হয় তাহলে তুমি অতীতেও যেতে পারবে না কারণ ভবিষ্যতে তোমার কোন অস্তিত্ব থাকবে না।
আমি: হুমম

মুমিন ভাই: কিন্তু কোনো ভাবে তার দাদা বেঁচে গেলেন এবং ভবিষ্যতে তোমার জন্ম হল। একসময় তুমি অতীতে গিয়ে দাদাকে মেরে ফেললে। এভাবে চলতেই থাকবে। হতে পারে তোমার গুলি ঠিক জায়গায় লাগলো না, হতে পারে গুলি মিস হল, হতে পারে নানাবিধ কারণ। এটা হচ্ছে প্যারাডক্সিক্যাল সিচ্যুয়েশনের ডিসটর্টেড প্রোবাবিলিটি। এই জটিলতা থেকে বের হওয়ার জন্য প্যারালাল ইউনিভার্স অথবা মাল্টিভার্সের ধারণা আসে। ধর তোমার জীবনের টাইমলাইন হচ্ছে একটা স্যান্ড বক্স। সেখানে তুমি সবার একটা করে অস্তিত্ব পাবে। যখন তুমি টাইমট্রাভেল করতে যাবে তখন যদি অন্য একটা স্যান্ড বক্সে ঢুকে যাও যেটা হচ্ছে অন্য আরেকটি ইউনিভার্স সেখানে তুমি তোমার দাদাকে মেরে ফেলতে পারবে যেটা তোমার নিজস্ব স্যান্ড বক্সে কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে যে ইউনিভার্সে তুমি দাদাকে মারবে সেখানে তোমার অস্তিত্ব তৈরি হবে না। অর্থাৎ সেই ইউনিভার্সে তুমি হবে এলিয়েন।
আমি: আর যদি ভবিষ্যতে যেতে চাই?

মুমিন ভাই: অতীতে টাইম ট্রাভেল করা যেমনটা থিউরিটিক্যালি বেশ জটিল, ঠিক তেমনটাই সহজ ভবিষ্যতে পারি জমানো। ভবিষ্যতে তুমি একাধিক উপায়ে যেতে পার।  যার মাঝে রয়েছে ওয়ার্মহোল, ব্ল্যাকহোল, আলোর গতিতে ছুটে চলা ইত্যাদি। আমি একটি নতুন সম্ভাবনার কথা চিন্তা করছি।
আমি: ওয়ার্মহোলের বিষয়টা জানি। ব্ল্যাকহোলের কথাও শুনেছি। আপনার নতুন সম্ভাবনার কথা বলেন।

মুমিন ভাই: এই ধর, আমি মারা যাচ্ছি, পাঁচ মিনিট বাঁচব আর। এমতাবস্থায় আমাকে ফ্রোজেন করে ফেলা হল। আমি হয়ত মারা যাব তবে আমার ব্রেইন সেল দীর্ঘদিন যাবত সতেজ থাকবে। এটা নির্ভর করে কতদিন ফ্রোজেন রাখা হচ্ছে। মাঝের সময়টা ধরে নাও ১০০ বছর। ১০০ বছর পর আমাকে ফ্রোজেন অবস্থা থেকে বের করে আনা হল এবং অতি দ্রুত আমার ব্রেইন ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হলো নতুন কোনো বডিতে। সেটা হতেও পারে কোনো রোবোট।
আমি: (বাহবা দিলাম)। অসাধারণ মুমিন ভাই। চলেন একটা বিরতি নেয়া যাক। হাত-পা ধরে গেছে বসে থাকতে থাকতে।

মুমিন ভাই: (হাসলেন)। তাহলে চিন্তা কর ১০০ বছর স্থির হয়ে থাকলে কেমন লাগবে।
দু’জনে হেসে উঠলাম।

SUBSCRIBE

অন্যান্য পোস্ট